
নিজস্ব প্রতিবেদক | নারায়ণগঞ্জ।
মাদক,অনলাইন জুয়া ও অর্থের লোভে সন্তান পাচারের অভিযোগ,পিবিআইয়ের অভিযানে উদ্ধার দুই শিশু,গ্রেপ্তার তিনজন
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাত্র ২ লাখ ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে নিজের দুই শিশুসন্তানকে মানব পাচার চক্রের কাছে বিক্রির অভিযোগে বাবা মেজবাহ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই ঘটনায় মানব পাচার চক্রের আরও দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার প্রায় ২৩ দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে পাঁচ বছর বয়সী আরিয়ান ও ২৮ দিন বয়সী নবজাতক আব্দুর রহমান জুবায়েতকে।
পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শিশু দুটির বাবা মেজবাহ উদ্দিন,মানব পাচার চক্রের সদস্য এমদাদুল হক রাব্বানী (২৩) এবং নুর-ই-নাসরিন (২৯)। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মেজবাহ উদ্দিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তদন্তে জানা যায়,সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মিজমিজি বুকস গার্ডেন এলাকার বাসিন্দা মেজবাহ উদ্দিন ও ঝর্ণা আক্তার দম্পতির সাত বছরের দাম্পত্য জীবনে নানা পারিবারিক অশান্তি চলছিল। অভিযোগ অনুযায়ী,মেজবাহ বিভিন্ন নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং মাদক ও অনলাইন জুয়ার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন। অর্থের জন্য স্ত্রীকে চাপ দেওয়া, সন্তান বিক্রির হুমকি এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২১ এপ্রিল পূর্বপরিচিত এমদাদুল হক রাব্বানীর সহযোগিতায় পরিকল্পিতভাবে দুই শিশুকে বাসা থেকে নিয়ে যান মেজবাহ উদ্দিন। পরে তিনি অপহরণের নাটক সাজানোর চেষ্টা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সন্তানদের কোনো খোঁজ না পেয়ে শিশুদের মা গত ১৩ মে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
এরপর পিবিআইয়ের একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। গত ১৩ মে রাতে সাভারের আড়াপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে পাঁচ বছর বয়সী আরিয়ানকে উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে গ্রেপ্তার হন বাবা মেজবাহ উদ্দিন।
পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বনানী কড়াইল বস্তি-সংলগ্ন এলাকা থেকে এমদাদুল হক রাব্বানীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পল্লবী এলাকায় অভিযান চালিয়ে নুর-ই-নাসরিনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার হেফাজত থেকে ২৮ দিন বয়সী নবজাতক আব্দুর রহমান জুবায়েতকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
পিবিআইয়ের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে,এমদাদুল হক রাব্বানী একটি সক্রিয় মানব পাচার চক্রের সদস্য। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন উপায়ে দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারকে টার্গেট করে শিশু সংগ্রহ ও পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক শিশু পাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া তদন্তে আরও উঠে এসেছে,মেজবাহ উদ্দিন মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং একাধিক বিয়ে করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পিবিআই জানিয়েছে, মানব পাচার চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
All rights reserved © 2019
Leave a Reply