1. online@crimetv24.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. admin@crimetv24.com : admin :
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন

সোনালী ব্যাংকের নিরাপত্তা বিভাগ নিয়ে প্রশ্ন,জিএম আব্দুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ।

বিশেষ প্রতিনিধি :
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩৭ বার পঠিত

বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।
রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক পিএলসির প্রধান কার্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো.আব্দুল কুদ্দুসের দায়িত্ব পপ্রশাসনিক সক্ষমতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ প্রশ্ন তুলেছেন।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ,বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধান কার্যালয়ে টাঙানো ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণের ঘটনায় নিরাপত্তা বিভাগের কর্মীদের ব্যবহার করা হয়েছে। তবে জিএম আব্দুল কুদ্দুসের দাবি,কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ব্যানার লক্ষ্য করে নয়,বরং ব্যাংকের সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানার অপসারণ করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী,এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ছিল।
তবে সেই নির্দেশনা লিখিত ছিল কি না,কার নির্দেশে ব্যানার অপসারণ করা হয় এবং নিরাপত্তাকর্মীদের এ কাজে ব্যবহারের অনুমোদন কে দিয়েছেন—এসব প্রশ্নের উত্তর নিয়ে ব্যাংকের ভেতরে বিতর্ক রয়েছে।
এদিকে ব্যানার অপসারণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ৯ সেপ্টেম্বর মো. মিলন মিয়া নামে সোনালী ব্যাংকের এক কর্মকর্তা মতিঝিল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে জিএম আব্দুল কুদ্দুস,ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো.শওকত আলী,ডিএমডি মোহাম্মদ শাহরিয়ার, আল আমিন শেখ বাবুল,শামসুদ্দিন,বশির উদ্দিন ও মো. হাকিমসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি,বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে টাঙানো ব্যানার ও ফেস্টুন নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই অপসারণ ও ছিঁড়ে ফেলা হয়।
অভিযোগে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত,কার নির্দেশে এবং কী উদ্দেশ্যে ব্যানার অপসারণ করা হয়েছে,তা তদন্তের মাধ্যমে বের করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ,প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর দাবি, ব্যাংকের আশপাশে বিভিন্ন দোকান,চায়ের স্টল ও খাবারের ব্যবসা গড়ে ওঠায় বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে,পণ্য বা খাবার সরবরাহের অজুহাতে কিছু বহিরাগত ব্যাংকের বিভিন্ন তলায় প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর,তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষ করে ক্যাশ ভোল্ট,আইটি বিভাগ ও সুইফট কার্যালয়ের আশপাশে অননুমোদিত ব্যক্তিদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর রয়েছে কি না,তা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।
কয়েকজন ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী আরও অভিযোগ করেছেন,কিছু হকার অর্থের বিনিময়ে নিয়মিত ব্যাংকের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পান। তবে এই অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন,নিরাপত্তা গেটের সিসিটিভি ফুটেজ,প্রবেশ রেজিস্টার,ভিজিটর তালিকা, নিরাপত্তাকর্মীদের ডিউটি রোস্টার এবং সংশ্লিষ্টদের পরিচয় যাচাই করলে অভিযোগটির সত্যতা নির্ধারণ করা সম্ভব।
ব্যাংকসংশ্লিষ্ট কয়েকজনের অভিযোগ,আব্দুল কুদ্দুসের অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন আওয়ামীপন্থী সংগঠনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বঙ্গবন্ধু পরিষদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা,বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের ছবি ও ভিডিও থাকার দাবি করেছেন তারা।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। কোনো ব্যক্তিকে শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে রাজনৈতিকভাবে দায়ী করা সমীচীন নয়। সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট,ছবি-ভিডিও,পদোন্নতির নথি ও প্রশাসনিক রেকর্ড যাচাইয়ের মাধ্যমেই প্রকৃত তথ্য বের করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তদন্তের দাবি
ব্যাংকসংশ্লিষ্টদের দাবি,বিষয়টিকে রাজনৈতিক বিরোধ হিসেবে না দেখে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সক্ষমতার দৃষ্টিকোণ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত করা উচিত।
তদন্তে ব্যানার অপসারণের নির্দেশনা,নিরাপত্তাকর্মীদের ভূমিকা, বহিরাগতদের প্রবেশ ব্যবস্থা,গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা, অর্থের বিনিময়ে প্রবেশের অভিযোগ এবং জিএম আব্দুল কুদ্দুসের দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা যাচাই করার দাবি উঠেছে।
সোনালী ব্যাংকের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা,নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই অভিযোগগুলো সত্য না মিথ্যা—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

All rights reserved © 2019

Design By Raytahost