
বিশেষ প্রতিবেদন | নিজস্ব প্রতিবেদক।
সরকারি ছুটি নিয়ে থাইল্যান্ডে যাওয়ার অনুমতি নিলেও শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান,দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিতি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রথম সচিব (মূসক পরিবীক্ষণ ও করদাতা সেবা) ও কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার তানজিনা রইসকে সরকারি চাকরি থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা,২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী,২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর তানজিনা রইস এক মাসের অর্জিত ছুটির অনুমোদন পান। ওই ছুটিতে তার গন্তব্য হিসেবে থাইল্যান্ডের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল এবং ৮ ডিসেম্বর থেকে ছুটি কার্যকর হয়। তবে নির্ধারিত সময় শেষে তিনি কর্মস্থলে যোগ দেননি।
পরবর্তীতে এনবিআরের অনুসন্ধানে জানা যায়,অনুমোদিত গন্তব্যের পরিবর্তে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলে তিনি ই-মেইলের মাধ্যমে দাবি করেন যে, ছুটির মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ানোর আবেদন করেছিলেন।
তবে এনবিআরের তদন্তে উঠে আসে, সরকারি বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তিনি ছুটি বৃদ্ধির আবেদন করেননি। ফলে তার আবেদন বাতিল করে ৪ মার্চ অবিলম্বে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই নির্দেশও তিনি পালন করেননি।
পরবর্তীতে অনুমতি ছাড়া ৬০ দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং ‘অসদাচরণ’ও‘পলায়ন’-এর অভিযোগে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা এনবিআরের সদস্য ড. মোহা.আল আমিন প্রামাণিক তদন্ত শেষে অভিযোগগুলো সত্য বলে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর দ্বিতীয় দফায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জবাব দেননি।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) চাকরিচ্যুতির সুপারিশে সম্মতি দেওয়ার পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে তাকে সরকারি চাকরি থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
বিশ্লেষণ
সরকারি প্রশাসনে বিদেশ ভ্রমণ ও ছুটি ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত বিধি কঠোরভাবে অনুসরণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অনুমোদিত গন্তব্য পরিবর্তন,যথাযথ অনুমতি ছাড়া বিদেশে অবস্থান এবং দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়। তানজিনা রইসের বিরুদ্ধে নেওয়া এই ব্যবস্থা সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের মতে,সরকারি চাকরিতে নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে পদমর্যাদা নয়,বিধি অনুসরণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে সরকারি কর্মকর্তাদের ছুটি ও বিদেশ সফর সংক্রান্ত বিধি আরও সতর্কতার সঙ্গে মেনে চলার বার্তা দেবে।
All rights reserved © 2019
Leave a Reply