
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় অবস্থিত পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে চিকিৎসাসেবায় চরম অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী পরিবারের দাবি, মাত্র ১৬ মাস বয়সী শিশু রাইয়ানের হাত থেকে রক্ত সংগ্রহের সময় একাধিকবার সুই প্রবেশ করানোর কারণে তার ডান হাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জরুরি অস্ত্রোপচার করতে হয়।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী,সামান্য মাথার ফোঁড়ার চিকিৎসার জন্য শিশু রাইয়ানকে চিকিৎসক ডা.শফিউল আলমের কাছে নেওয়া হয়। চিকিৎসক প্রয়োজনীয় কিছু পরীক্ষা লিখে দিলে সেগুলো করাতে চাষাড়ার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান তারা।
অভিযোগে বলা হয়,ল্যাবে দায়িত্বে থাকা কর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে শিশুটির হাতে বারবার সুই প্রবেশ করিয়ে রক্ত সংগ্রহের চেষ্টা করেন। পরে অল্প পরিমাণ রক্ত সংগ্রহ করে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। বাসায় ফেরার পর থেকেই শিশুটির হাত ফুলে যায় এবং সারারাত তীব্র ব্যথায় কাতরাতে থাকে।
পরদিন রিপোর্ট নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি শিশুর হাত দেখে দ্রুত ঢাকার বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, কনুই থেকে আঙুল পর্যন্ত রক্ত চলাচলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়।
বর্তমানে শিশুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পরিবারের দাবি,এ ঘটনার সম্পূর্ণ দায় পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ল্যাব কর্মীদের। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
All rights reserved © 2019
Leave a Reply