1. online@crimetv24.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. admin@crimetv24.com : admin :
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রামে দুর্যোগ মোকাবিলায় সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল,পানিবন্দী সাড়ে ৪ লাখ মানুষ।

বিশেষ প্রতিনিধি :
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬
  • ৯৫ বার পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদক |
টানা পাঁচ দিনের ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে ভয়াবহ বন্যা ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ি ঢল এবং অতিবৃষ্টির কারণে জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের অধীন সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি জানান,দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিটি উপজেলায় এবং জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান,ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী,সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা,যেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়া চন্দনাইশ,লোহাগাড়া,বাঁশখালী ও বোয়ালখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাও প্লাবিত হয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলেন,আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষের জীবন। কোনো প্রাণ যেন সামান্য অসচেতনতার কারণেও ঝরে না পড়ে। সবাইকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি জানান,পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিতভাবে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়কে অবহিত করা হচ্ছে এবং সেখান থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা নেওয়া হচ্ছে।
ত্রাণ কার্যক্রমের বিষয়ে জেলা প্রশাসক জানান,ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিল থেকে আরও ২০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। প্রথম ধাপের ত্রাণ ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে এবং নতুন বরাদ্দ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া হবে।
উদ্ধার কার্যক্রম আরও জোরদার করতে সাতকানিয়া উপজেলার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ১০টি স্পিডবোট চাওয়া হয়েছে। স্পিডবোট না আসা পর্যন্ত নৌকার মাধ্যমে পানিবন্দী মানুষদের উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন।
দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন,বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, রেড ক্রিসেন্ট,আনসার বাহিনী,স্বেচ্ছাসেবক এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে বিশেষ উদ্ধার ও ত্রাণ টিম গঠন করা হয়েছে।
বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলায় ৬২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রিত মানুষের জন্য চিড়া, মুড়ি,গুড়,শিশুদের জন্য মাফিন,কেক,বিস্কুট, ওরস্যালাইন ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবাও নিশ্চিত করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী,সাতকানিয়া,লোহাগাড়া ও চন্দনাইশ উপজেলায় ইতোমধ্যে প্রায় ৮ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে,কোনো দুর্গত মানুষ যেন খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলা শুধু সরকারের নয়,পুরো সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। তিনি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান এবং ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ও প্লাবিত এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার অনুরোধ করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

All rights reserved © 2019

Design By Raytahost