
বিশেষ প্রতিবেদন
ভারতের কলকাতার একটি সুরক্ষিত সেনা আবাসিক এলাকায় বাংলাদেশের তিন আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা অবস্থান করছেন—এমন একটি দাবি ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আমার দেশ পত্রিকার এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (বরখাস্ত) মো.মুজিবুর রহমান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.)মো.আকবর হোসেন এবং মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ বর্তমানে কলকাতার একটি উচ্চ-নিরাপত্তাসম্পন্ন সেনা আবাসিক এলাকায় অবস্থান করছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী,২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রথমে মুজিবুর রহমান ও আকবর হোসেন ভারতে যান। পরে গুম, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধসংক্রান্ত তদন্ত এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রেক্ষাপটে মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদও দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। প্রথমদিকে তারা কলকাতার সল্টলেক ও নিউ টাউনের একটি আবাসিক কমপ্লেক্সে পরিবারসহ বসবাস করলেও সম্প্রতি তাদের আরও সুরক্ষিত সেনা আবাসিক এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওই তিন সাবেক কর্মকর্তা নিয়মিত ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি,ভবিষ্যৎ কৌশল এবং বিভিন্ন বিষয়ে কলকাতার বিভিন্ন স্থানে একাধিক বৈঠকও হয়েছে বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব দাবির স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য যাচাই এখনো প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
মো.মুজিবুর রহমান সম্পর্কে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি সাবেক সরকারের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা ছিলেন এবং সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার প্রভাব বিস্তারে ভূমিকা রেখেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাপ্রবাহে সেনাবাহিনীর ভেতরে অভ্যুত্থানের চেষ্টা, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও নির্যাতনের পরিকল্পনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.)আকবর হোসেন সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,সাবেক ডিজিএফআই প্রধান হিসেবে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করার পরিকল্পনায় তার ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে গুম,নির্যাতন এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়নের বিভিন্ন অভিযোগও তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে,মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ সম্পর্কে বলা হয়েছে, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে তদন্ত শুরুর পর তিনি ভারতে চলে যান। ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে কঠোর পদক্ষেপের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে,যদি এসব দাবি সত্য প্রমাণিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সত্যিই কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের সুরক্ষিত সামরিক স্থাপনায় অবস্থান করে থাকেন,তবে বিষয়টি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা,বিচারিক প্রক্রিয়া এবং দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে সরকার,সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র এবং তদন্তকারী সংস্থার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও নিরপেক্ষ যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য,এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিক্রিয়া বা ভারতের সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো এখনো আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। ফলে এগুলোকে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের দাবি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত এবং স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
All rights reserved © 2019
Leave a Reply