
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামে হামের বিস্তার নতুন করে জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ তৈরি করেছে। আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও এখনও নগরীতে কার্যকর হাম শনাক্তকরণ পরীক্ষার ব্যবস্থা চালু হয়নি। ফলে রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজলস-রুবেলা ল্যাবরেটরিতে পাঠাতে হচ্ছে, যার কারণে রিপোর্ট পেতে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগছে।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন ১১৬ জন রোগী। রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে হাসপাতালের ৫০ শয্যার হাম ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন প্রায় ৮০ শিশু। অনেক ক্ষেত্রে একই শয্যায় দুই শিশুকে রাখতে বাধ্য হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
অভিভাবকদের অভিযোগ,গরম ও সংকীর্ণ পরিবেশে শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে অবস্থান করা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। জ্বর, কাশি ও শরীরে র্যাশ নিয়ে প্রতিদিন নতুন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে।
এদিকে ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি)-এ হাম শনাক্তের সক্ষমতা থাকলেও কিট সংকট এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের অভাবে পরীক্ষা চালু করা যাচ্ছে না। বিআইটিআইডির অধ্যাপক ডা. মামুনুর রশীদ জানিয়েছেন, কিট ও অনুমোদন পেলেই দ্রুত পরীক্ষা শুরু করা সম্ভব হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে,বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী দেশে বর্তমানে হামের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি চলছে। চট্টগ্রামের ৯টি ওয়ার্ডকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা.জাহাঙ্গীর আলম বলেন,শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদানের আওতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোই হামের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায়।
All rights reserved © 2019
Leave a Reply