
সাইফুল:নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি।
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাঁশগাড়ি এলাকায় এক যুবককে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে দুই দিন আটকে রেখে নির্যাতনের মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় এবং তার মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকার কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী‘ছোট রুবেল’এর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে টঙ্গীর হিমারদিঘী কেরানীরটেক এলাকার বাসিন্দা মো. অনিক শেখ তার কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে রায়পুরার বাঁশগাড়ি এলাকায় ঘুরতে যান। এ সময় একদল যুবক তাদের গতিরোধ করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অনিককে তুলে নিয়ে যায়। পরে তার চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে দুই দিন আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি,আটক অবস্থায় তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। একই সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণের টাকা না দিলে তাকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
পরিবারের সদস্যরা অনিকের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে তার ব্যবহৃত ইয়ামাহা আর-১৫ (R15) মোটরসাইকেল, যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ল ৭১-৮৬২৬,অভিযুক্তরা নিজেদের হেফাজতে রেখে দেয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ছোট রুবেল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া,ভূমি দখল,চাঁদাবাজি এবং মানুষকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। তবে ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না।
মঙ্গলবার ঘটনাস্থল বাঁশগাড়ি এলাকায় গিয়ে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলেন সংবাদকর্মীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান,ছোট রুবেল প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করে এবং বিভিন্ন সামাজিক ও গ্রামীণ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। তার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাসিম বলেন,এলাকার মানুষ আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছে। কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পায় না। প্রতিবাদ করলে নানা ধরনের হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
এ বিষয়ে নরসিংদী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) সুজন চন্দ্র সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অপরাধী যে-ই হোক,আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন,বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, রায়পুরার বাঁশগাড়ি এলাকায় সন্ত্রাস,অপহরণ, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রের মহড়ার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হোক।
All rights reserved © 2019
Leave a Reply