1. online@crimetv24.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. admin@crimetv24.com : admin :
শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন

কাশিপুর কল্যাণী খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ পুনঃখনন শুরু,তৎপর সদর উপজেলা প্রশাসন।

নিজস্ব প্রতিনিধি :
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬
  • ৭৭ বার পঠিত

প্রতিবেদক-তাছলিমা পপি।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশিপুর এলাকার ঐতিহ্যবাহী কল্যাণী খাল দখলমুক্ত করে পুনরায় সচল করতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান ও পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল থেকে সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ফতুল্লা ও সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নেতৃত্বে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে খালটির দুই পাড় এবং বিভিন্ন অংশ অবৈধভাবে দখল করে ঘরবাড়ি,দোকানপাট ও বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। ফলে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং বর্ষা মৌসুমে কাশিপুরসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে খালটি দখলমুক্ত ও পুনঃখননের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
সরকারের জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবং প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প‘খাল পুনঃখনন কর্মসূচি’র আওতায় কল্যাণী খাল পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে খালের দুই পাশের সরকারি জমি দখলমুক্ত করা হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে খালটির পুনঃখনন কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো.রায়হান কবিরের কঠোর নির্দেশনায় এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে অনেক অবৈধ দখলদার ইতোমধ্যে স্বেচ্ছায় নিজেদের স্থাপনা সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন। যারা এখনো সরকারি জমি ছেড়ে দেননি,তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়,উচ্ছেদ অভিযানের আগে খালটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এ সময় তিনি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিতকরণ, দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় নোটিশ প্রদান করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন। পরবর্তীতে তালিকা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করা হয়।
অভিযান চলাকালে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা,আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। নির্বিঘ্নে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন,কল্যাণী খাল একসময় এ অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল। কিন্তু বছরের পর বছর অবৈধ দখল ও ভরাটের কারণে খালটির অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়ে। এর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
তিনি আরও বলেন,মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং জেলা প্রশাসকের কঠোর তদারকির আলোকে আমরা খালটি দখলমুক্ত করে পুনঃখননের কাজ শুরু করেছি। সরকারি সম্পত্তি দখল করে যারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা বসতি গড়ে তুলেছেন,তাদের একাধিকবার নোটিশ দিয়ে স্বেচ্ছায় সরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এরপরও যারা দখল ছাড়েননি,তাদের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে।
ইউএনও আরও জানান,জলাবদ্ধতা নিরসন,পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে এ অভিযান কোনো অবস্থাতেই বন্ধ হবে না। খালের সরকারি জায়গায় গড়ে ওঠা সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। জনস্বার্থে পরিচালিত এ কার্যক্রমে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে,খালটি সম্পূর্ণ দখলমুক্ত হওয়ার পর পুনঃখনন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। এর ফলে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা কমবে,পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

All rights reserved © 2019

Design By Raytahost