
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বীমা গ্রাহকদের প্রায় ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা পাওনা পরিশোধ না করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আমজাদ হোসেনসহ দুই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার(১ অক্টোবর)রাজধানীর মতিঝিলে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রধান কার্যালয় থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার অপর ব্যক্তি হলেন কোম্পানির মানবসম্পদ (এইচআর) বিভাগের এক্সিকিউটিভ অফিসার মো.বিল্লাল হোসেন। পরে তাদের খিলগাঁও থানায় নেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছিল।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর হাছিনা আক্তার নামে এক নারী বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় হোমল্যান্ড লাইফের সিইও আমজাদ হোসেনসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও এক থেকে দুইজনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে মামলাটি দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় দায়েরের কথা উল্লেখ রয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী,বাদিনী হাছিনা আক্তার প্রায় ২৫ বছর হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং নোয়াখালীর চাটখিল এলাকায় দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মাধ্যমে উন্নয়নকর্মীদের সহায়তায় প্রায় ৫ হাজার গ্রাহক সংগ্রহ করা হয় বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী,এসব গ্রাহকের কাছ থেকে বীমার প্রিমিয়াম বাবদ অর্থ সংগ্রহ করে কোম্পানির কোষাগারে জমা দেওয়া হলেও ২০১৬ সাল থেকে বিভিন্ন গ্রাহকের বীমার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাদের প্রাপ্য অর্থ ও বীমা দাবি যথাসময়ে পরিশোধ করা হয়নি।
এজাহারে বাদিনী দাবি করেছেন,তিনি নিজেও হোমল্যান্ড লাইফের একজন গ্রাহক। তার ও তার স্বামীর দুটি বীমা পলিসির বিপরীতে প্রায় ১১ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।
এছাড়া তার মাধ্যমে সংগৃহীত অন্যান্য গ্রাহকদের প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে বাদিনীর দাবি।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১১ আগস্ট রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীর একটি বাসায় অভিযুক্তরা কয়েকজন ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে বাদিনীর সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তার নিজের, স্বামীর এবং অন্যান্য গ্রাহকের পাওনা অর্থ পরিশোধের আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি তাকে পুনরায় কোম্পানিতে যোগদানের প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ওই প্রস্তাবে সম্মতি না দেওয়ার পর পাওনা অর্থ ফেরত না দেওয়ার কথা জানানো হয় বলে বাদিনীর অভিযোগ।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা গ্রাহকদের পাওনা অর্থ পরিশোধ না করে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন—এমন তথ্যও বাদিনী জানতে পারেন বলে দাবি করেছেন।
অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ
এদিকে হোমল্যান্ড লাইফের গ্রাহকদের বীমা দাবি পরিশোধ নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ও মামলা হওয়ার তথ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
তবে বর্তমান মামলায় করা অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো তদন্তাধীন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করার বিধান রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও সংশ্লিষ্টদের দায় নির্ধারণ হবে।
All rights reserved © 2019
Leave a Reply