
নিজস্ব প্রতিবেদক,নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জ নগরীতে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। হকারদের অভিযোগ,কোনো ধরনের নোটিশ না দিয়েই রাত সাড়ে ৮টার দিকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক)। আকস্মিক এ অভিযানে ক্ষুব্ধ হকাররা প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে নাসিক প্রশাসক এ এইচ এম সাখাওয়াত হোসেন খানকে ঘিরে বিক্ষোভ,হকার ও উচ্ছেদকর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি এবং একজনকে আটকের ঘটনা ঘটে।
গত রোববার রাতে নগরীর শায়েস্তা খান সড়কে এ ঘটনা ঘটে। হকারদের বক্তব্য, জীবিকা নির্বাহের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এমন একটি অভিযানের আগে তাদের কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। ফলে আকস্মিক উচ্ছেদে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদে নামেন।
হকারদের অভিযোগ, সাধারণত বিকেল ৫টার মধ্যে নিয়মিত উচ্ছেদ কার্যক্রম শেষ হলেও রাতে ৯ টার দিকে প্রশাসকের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। আগে থেকে কোনো নোটিশ বা সতর্কবার্তা না পাওয়ায় তারা নিজেদের বক্তব্য জানানোর সুযোগ পাননি বলে দাবি করেন।
তাদের প্রশ্ন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হলে ক্ষতিগ্রস্ত হকারদের সঙ্গে আগে আলোচনা করা হলো না কেন?পুনর্বাসন কিংবা বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না,সে প্রশ্নও তুলেছেন তারা।
হকারদের দাবি, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা প্রয়োজন—এ বিষয়ে তাদের আপত্তি নেই। তবে উচ্ছেদের নামে জীবিকার ওপর আকস্মিক আঘাত না করে নিয়ম মেনে, মানবিক বিবেচনায় এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য শোনার মাধ্যমে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শায়েস্তা খান সড়কে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে হকাররা বাধা দেন এবং প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। হকার ও উচ্ছেদকর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আটক ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
হকার নেতা রনি অভিযোগ করে বলেন,নাসিকের প্রশাসক রাতে তার বাহিনী নিয়ে এসে আমাদের ওপর আকস্মিক হামলে পড়েছেন। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং অনতিবিলম্বে তার অপসারণ চাই।
হকারদের অভিযোগ, রাতের বেলায় আকস্মিক অভিযান চালিয়ে তাদের প্রতিবাদ ও বক্তব্য জানানোর সুযোগ সীমিত করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং উচ্ছেদ কার্যক্রমে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
নগরীর ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা জরুরি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাতে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষদের উচ্ছেদের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া, মানবিক বিবেচনা এবং বিকল্প ব্যবস্থার প্রশ্নও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
নগরবাসীর চলাচলের অধিকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি হকারদের জীবিকা ও ন্যায্য আচরণ পাওয়ার প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ। উচ্ছেদ অভিযানের আগে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল কি না,হকারদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল কি না এবং তাদের পুনর্বাসনে কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
অন্যদিকে,সিটি করপোরেশন সূত্রের দাবি,নগরীতে যানজট কমানো,ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নিয়েছে বলে সূত্রটি জানায়।
তবে হকারদের নোটিশ না পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সিটি করপোরেশনের নির্দিষ্ট বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনা সম্পর্কেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা জনসমক্ষে আসা জরুরি।
ফুটপাত দখলমুক্ত করার নামে যেন দরিদ্র মানুষের জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি না হয়,আবার নগরবাসীও যেন ফুটপাত ব্যবহারের অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন—এ দুইয়ের মধ্যে ন্যায়সংগত সমাধানই এখন নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা।
All rights reserved © 2019
Leave a Reply