
কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ইউসুফপুর এলাকায় সামিয়া আক্তার (১৮) নামে এক নববধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে নিজ ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সামিয়া আক্তার ইউসুফপুর গ্রামের রাকিব হাসানের স্ত্রী এবং বাঙ্গরা উপজেলার বড়পুকুরিয়া গ্রামের প্রবাসী কামাল মিয়ার মেয়ে।
স্থানীয়দের দাবি,পারিবারিক কলহের জেরে সামিয়া ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে দেবিদ্বার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে ঘিরে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। সামিয়ার বড় বোন কোহিনুর আক্তার রিয়া অভিযোগ করেন, প্রায় চার মাস আগে উভয় পরিবারের পছন্দে রাকিবের সঙ্গে সামিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের দুই মাস পর রাকিব দুর্ঘটনায় আহত হলে চিকিৎসার পর সামিয়া ও তার স্বামী লাকসামে রাকিবের বড় বোনের বাড়িতে প্রায় দুই মাস অবস্থান করেন।
কোহিনুরের অভিযোগ,চিকিৎসার খরচের কথা বলে তাদের নানার বাড়ির জমি বিক্রি করে টাকা এনে দেওয়ার জন্য সামিয়াকে চাপ ও নির্যাতন করা হতো। কয়েক দিন আগে তাকে লাকসাম থেকে ইউসুফপুরের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এ সময়ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয় বলে দাবি করেন তিনি।
নিহতের পরিবারের আরও অভিযোগ, সামিয়াকে দেখতে তার মা ও বোন বাড়িতে গেলে শ্বশুর-শাশুড়ি তাকে তাদের সঙ্গে যেতে দেননি। ঘটনার দিন বিকেলে সামিয়ার মোবাইলে ফোন করলে তার শাশুড়ি মৃত্যুর খবর দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা খোলা এবং বাড়ির লোকজনকে অনুপস্থিত দেখতে পান বলে দাবি করেন।
এদিকে,ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.মনিরুজ্জামান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর সামিয়া আক্তারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
All rights reserved © 2019
Leave a Reply