1. online@crimetv24.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. admin@crimetv24.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন

ঐতিহ্যের তোলারামে নতুন দিনের প্রত্যাশা-নেতৃত্বে অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম।

নিজস্ব সংবাদদাতা মোহাম্মদ আবির হোসেন।
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১২৮ বার পঠিত

মো:নিজস্ব প্রতিবেদক:মো:আবির।
নয় মাসে তোলারাম কলেজ,অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলামের সময়ে উদ্যোগ ও অর্জনের চিত্র।
নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সরকারি তোলারাম কলেজ। প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর এই বৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ হিসেবে প্রফেসর মো.শহিদুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণ করেন ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে। এরপর থেকে প্রায় নয় মাসের দায়িত্বকালে কলেজের একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা,অভিভাবক সম্পৃক্ততা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি,সহশিক্ষা কার্যক্রম,পরিবেশ এবং ক্যাম্পাস ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম সামনে এসেছে।
প্রকাশিত সংবাদ ও কলেজের নিজস্ব তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই সময়ে কলেজ প্রশাসনের কার্যক্রমের একটি বড় অংশ ছিল শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের অর্জনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা।

দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি:-
অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি তাঁর সামনে আসে। ১৮ জানুয়ারি ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ সরকারি তোলারাম কলেজ শাখা অধ্যক্ষের কাছে ১০ দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি দেয়।
দাবিগুলোর মধ্যে ছিল ছাত্রাবাস ও ছাত্রীবাসের আসন বৃদ্ধি, কলেজ বাসের রুট সম্প্রসারণ,ক্যাম্পাসে সিসিটিভি,জলাবদ্ধতা নিরসন, গ্রিন ক্যাম্পাস, লাইব্রেরিতে প্রয়োজনীয় বই, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, অধ্যক্ষ স্মারকলিপিটি গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করে কলেজের সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
অর্থাৎ দায়িত্বের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার সঙ্গে প্রশাসনের সরাসরি যোগাযোগের একটি চিত্র পাওয়া যায়।

স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সংযোজন মেডিকেল সেন্টার:-
অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলামের দায়িত্বকালেই কলেজে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মেডিকেল সেন্টার চালু করা হয়। কলেজের প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, সেখানে একজন এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।মেডিকেল সেন্টার উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি ও স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কর্মশালার আয়োজন করা হয়। নারী শিক্ষার্থীদের জন্যও আলাদা স্বাস্থ্যসচেতনতা সেশন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ প্রফেসর মো.শহিদুল ইসলাম।

অভিভাবকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ:-
শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পড়াশোনার মান ও শৃঙ্খলা নিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে ২০২৬ সালে দুই দিনব্যাপী অভিভাবক সম্মেলনের আয়োজন করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
কলেজের প্রকাশিত তথ্যমতে, শিক্ষার মানোন্নয়ন, নিয়মিত শ্রেণি উপস্থিতি নিশ্চিত করা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জোরদার করাই ছিল এ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম।

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে বড় সাফল্য:-
২০২৬ সালের জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে সরকারি তোলারাম কলেজ বিভিন্ন বিভাগে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে। কলেজের প্রকাশিত তথ্য এবং নারায়ণগঞ্জের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি শ্রেষ্ঠ কলেজ নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি রোভার, রেঞ্জার, বিএনসিসি, শিক্ষার্থী, শ্রেণিশিক্ষক, রচনা, আবৃত্তি, সংগীতসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সাফল্য অর্জন করে।
এ অর্জনের বিষয়ে অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শহিদুল ইসলাম সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন বলে কলেজের প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—এসব পুরস্কার মূলত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত অর্জন। তাই এগুলোকে সরাসরি অধ্যক্ষের ব্যক্তিগত পুরস্কার হিসেবে নয়, বরং তাঁর দায়িত্বকালে কলেজের অর্জন হিসেবে দেখা অধিক যুক্তিসঙ্গত।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে শিক্ষার্থীদের সাফল্য:-
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা ২০২৬-এ সরকারি তোলারাম কলেজ প্রথম স্থান অর্জন করে। কলেজের প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের প্রকল্পের বিষয় ছিল চিকিৎসাসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম উপস্থিত থেকে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
একই সময়ে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমেও কলেজের শিক্ষার্থীরা সাফল্য পায়। ফলে অধ্যক্ষের দায়িত্বকালে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক শিক্ষার বিষয়টি কলেজের দৃশ্যমান কার্যক্রমের একটি অংশ হয়ে ওঠে।

নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ ও উন্মুক্ত ক্যাম্পাসের বার্তা:-
৮ মে ২০২৬ কলেজে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পান।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে অনুষ্ঠানে ‘উন্মুক্ত ক্যাম্পাস’, সব শিক্ষার্থীকে সমান সুযোগ এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়গুলো উঠে আসে। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানকে ঘিরে কিছু বক্তব্য ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের কারণে উত্তেজনাও তৈরি হয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনাটি দেখায়, ক্যাম্পাসের পরিবেশ ও বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা অধ্যক্ষের দায়িত্বকালের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জও ছিল।
সংঘর্ষের পর ছাত্রাবাস পুনরায় চালুর উদ্যোগ:-
২০২৬ সালের আগস্টে সরকারি তোলারাম কলেজের শের-ই বাংলা ছাত্রাবাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সেটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয় কলেজ প্রশাসন।
২৩ আগস্ট অধ্যক্ষের কার্যালয়ে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও কলেজ প্রশাসনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে ছাত্রাবাস পুনরায় চালু, আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হয়।
অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম জানান, একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় নোটিশের পর ছাত্রাবাস পুনরায় চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরবর্তীতে ছাত্রাবাসটি পুনরায় চালুর সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশিত হয়।
এটি তাঁর দায়িত্বকালের এমন একটি দিক, যেখানে একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা ও আবাসিক শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধানেও প্রশাসনিক উদ্যোগ নিতে হয়েছে।
জুলাই শহীদদের স্মরণে স্মৃতিভবন ও স্মৃতিচত্বর
আগস্টে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে কলেজে দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং কলেজ ক্যাম্পাসে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিভবন’ ও ‘শহীদ স্মৃতিচত্বর’ উদ্বোধন করা হয়।
এছাড়া আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ থাকা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জাতীয় স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাসের উদ্যোগ:-
সেপ্টেম্বরের শেষদিকে কলেজের রেঞ্জার ইউনিটের উদ্যোগে ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন স্থানে ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন অধ্যক্ষ প্রফেসর শহিদুল ইসলাম। তাঁর বক্তব্যে শুধু গাছ লাগানো নয়, লাগানো গাছের পরিচর্যার ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা উঠে আসে।
নতুন শিক্ষাবর্ষে প্রায় ১,৮৪৬ শিক্ষার্থীর যাত্রা:-
সর্বশেষ ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির নতুন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন ও ক্লাস শুরু হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—তিন শাখা মিলিয়ে মোট ১,৮৪৬ শিক্ষার্থী নতুন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়েছে।
ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম নবীন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের ভবিষ্যৎ গঠনে এখন থেকেই পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
নয় মাসের কার্যকাল: অর্জনের পাশাপাশি সামনে চ্যালেঞ্জও
প্রকাশিত তথ্য পর্যালোচনা করলে অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলামের দায়িত্বকালে কয়েকটি বিষয় স্পষ্টভাবে সামনে আসে—শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সহশিক্ষা কার্যক্রম, পরিবেশ, নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ এবং ছাত্রাবাসের মতো প্রশাসনিক বিষয়।
তবে একই সঙ্গে জানুয়ারির ১০ দফা স্মারকলিপি, ছাত্রাবাসসংক্রান্ত ঘটনা এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবিগুলোও দেখায় যে কলেজটির সামনে এখনো বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব দাবির কতগুলো বাস্তবায়িত হয়েছে এবং কোনগুলো বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে—তা প্রশাসনের কাছ থেকে পরিসংখ্যানসহ জানা গেলে অধ্যক্ষের পুরো কার্যকাল সম্পর্কে আরও পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন সম্ভব হবে।
সামনে বাকি আড়াই মাস:-
অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় নয় মাস পর কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বেশ কিছু উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়েছে। এখন তাঁর দায়িত্বকালের বাকি সময়টুকুতে কোন কাজগুলো তিনি অগ্রাধিকার দেবেন, দীর্ঘদিনের কোন সমস্যার সমাধান করতে চান এবং তাঁর মেয়াদ শেষে কলেজের জন্য কী রেখে যেতে চান—এসব প্রশ্নই সামনে আসছে।
বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের আবাসন, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা, লাইব্রেরি, পরিবহন, জলাবদ্ধতা, ছাত্র সংসদ, একাডেমিক পরিবেশ এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার বিস্তারের বিষয়ে প্রশাসনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানা গেলে তাঁর দায়িত্বকালের পূর্ণ চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।
প্রকাশ্য সংবাদ ও কলেজের তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সময়টি সরকারি তোলারাম কলেজে একাধিক শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক কার্যক্রম ও অর্জনের সময় হিসেবে সামনে এসেছে; তবে এসব অর্জনের পেছনে অধ্যক্ষ, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত ভূমিকা রয়েছে

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

All rights reserved © 2019

Design By Raytahost