1. online@crimetv24.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. admin@crimetv24.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন

সাংবাদিকদের ছবি ব্যবহার করে অপপ্রচার ও হয়রানি,ঢাকা প্রেসক্লাবের তীব্র নিন্দা।

বিশেষ প্রতিনিধি।
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩৬ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সাংবাদিকদের ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অর্থ দাবির অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা প্রেসক্লাব। সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) এক প্রতিবাদী বক্তব্যে ঢাকা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতা,মন্ত্রী,সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বিভিন্ন সময়ে তোলা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় নির্ধারণ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা উদ্বেগজনক। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সাংবাদিক সমাজের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি এবং সাংবাদিকদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার ঝুঁকি তৈরি করছে।
ছবি ব্যবহার করে সাংবাদিকদের রাজনৈতিকভাবে চিহ্নিত করার অভিযোগ
ঢাকা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ বলেন,ব্যক্তিগত,সামাজিক কিংবা সাংগঠনিক অনুষ্ঠানে তোলা ছবি কেটে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছবি তৈরি বা পরিবর্তনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের বিতর্কিত করার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
তাঁদের মতে,একটি ছবি কখনোই কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়, অপরাধ কিংবা দলীয় আনুগত্যের চূড়ান্ত প্রমাণ হতে পারে না। পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে সাংবাদিকদের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা,সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, শিল্পী ও সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হয়। সাক্ষাৎকার,সংবাদ সংগ্রহ কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সময় ছবি তোলা স্বাভাবিক বিষয়।
তাই শুধু কোনো রাজনৈতিক নেতা বা বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে ছবি থাকার কারণে একজন সাংবাদিককে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অনুসারী হিসেবে চিহ্নিত করা কিংবা সামাজিকভাবে হেয় করা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তাঁরা।
ছবি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবির অভিযোগ তদন্তের দাবি
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশের ভয় দেখানো, ব্যক্তিগত ইনবক্সে ছবি পাঠিয়ে চাপ সৃষ্টি, ছবি সরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ দাবি এবং অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে আরও ছবি বা সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে,পাভেল নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একটি চক্র এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে। অভিযোগ অনুযায়ী, ছবি প্রকাশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চাপে ফেলা, অর্থ দাবি এবং অর্থ না দিলে একাধিক অনলাইন পোর্টালে একই ধরনের সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
এ ছাড়া পরিচিত ব্যক্তি কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নাম ব্যবহার করে ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগও রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ঢাকা প্রেসক্লাব। সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাঁকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। একইভাবে, তদন্তে কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
ঢাকা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ বলেন,সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল,কথিত চাঁদাবাজি,ব্ল্যাকমেইল,উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মব সৃষ্টির অপচেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তাঁদের ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে পেশাদার ও সৎ সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে সাংবাদিকতা পেশা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাঁরা আরও বলেন,রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্কের অভিযোগ যাচাই করতে হলে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ,প্রকাশ্য বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রকৃত কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিতে হবে। অনুমান,ব্যক্তিগত ছবি কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী।
সাংবাদিকদের ছবি ব্যবহার করে অপপ্রচার,ভয়ভীতি প্রদর্শন, অর্থ দাবি, ব্ল্যাকমেইল ও মব সৃষ্টির অভিযোগগুলো দ্রুত এবং নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা প্রেসক্লাব।
সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ বলেন,প্রাসঙ্গিক ছবি,বার্তা,কলের তথ্য এবং আর্থিক লেনদেন আইনসম্মত পদ্ধতিতে যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
একই সঙ্গে নিরপরাধ সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়।
ঢাকা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ বলেন,সাংবাদিকদের রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত করা, ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে সামাজিকভাবে হেয় করা কিংবা সাংবাদিক সমাজের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে। কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য সাংবাদিকদের ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সে ধরনের অভিযোগও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা উচিত।
তাঁদের মতে, কোনো পক্ষের রাজনৈতিক স্বার্থ নয়, বরং সত্য উদ্‌ঘাটন, ন্যায়বিচার, ব্যক্তির মর্যাদা রক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য।
প্রতিবাদী বক্তব্যে ঢাকা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ বলেন,সাংবাদিকতা কোনো চাঁদাবাজির হাতিয়ার নয়,একটি ছবি কোনো অপরাধের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়, আর মব সৃষ্টি করে কাউকে অপরাধী বানানোর অধিকার কারও নেই।
তাঁরা সৎ ও পেশাদার সাংবাদিকদের মর্যাদা রক্ষা,অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধ, কথিত ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ তদন্ত, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

All rights reserved © 2019

Design By Raytahost