
নিজস্ব প্রতিবেদক:মোঃ হোসাইন।
রাষ্ট্রীয় সম্পদ সংরক্ষণ ও অবৈধ দখলমুক্তকরণে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে ডেমরা সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) (এসিল্যান্ড)কে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষ।
সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিক ও একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে আদালতের স্থগিতাদেশের মধ্যেই নামজারি,পরে আপিলে বাতিল—আদেশ বাস্তবায়নে গড়িমসির অভিযোগ’এবং স্থগিতাদেশের পরও নামজারি! ডেমরা সাব-রেজিস্ট্রার রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ,শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবাদে এসব প্রতিবেদনে উপস্থাপিত অভিযোগ ও তথ্যকে একপেশে, বিভ্রান্তিকর এবং যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রকাশিত বলে দাবি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট এসিল্যান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণ,অবৈধ দখলমুক্তকরণ এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষায় নিয়ম অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে সরেজমিনে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি উদ্ধারকৃত সম্পত্তিতে সরকারি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। তবে পরবর্তীতে রাতের আঁধারে সেই সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবাদে আরও বলা হয়,একটি স্বার্থান্বেষী মহল ও কথিত সিন্ডিকেট রাষ্ট্রীয় সম্পদ উদ্ধারে চলমান প্রশাসনিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দায়িত্ব পালনে নিরুৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করছে।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অপসাংবাদিকতার মাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগ প্রচারের পাশাপাশি চাঁদা বা আর্থিক সুবিধা দাবির অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যথাযথ তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষ জানিয়েছে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকতার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রতিবাদে বলা হয়েছে,কোনো অভিযোগ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট নথি, আদালতের আদেশ,প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য যাচাই করা জরুরি। একপেশে তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করা হলে প্রকৃত ঘটনা আড়ালে থেকে যেতে পারে বলেও দাবি করা হয়।
সংশ্লিষ্ট এসিল্যান্ড বলেন,ভালো কাজ করতে গেলে বাধা আসবেই। সব বাধা অতিক্রম করে রাষ্ট্র ও জনস্বার্থে কাজ করে যাব।
তার ভাষ্য অনুযায়ী,রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করা সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের চাপ বা অপপ্রচারের কাছে তিনি নতি স্বীকার করবেন না।
এদিকে,প্রকাশিত প্রতিবেদন,অপপ্রচার এবং চাঁদা দাবির অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম, সাংবাদিক এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দেওয়ানি ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
প্রতিবাদে প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদন পুনরায় যাচাই করে সরকারি নথি,আদালতের আদেশ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি,রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা ও উদ্ধারে একজন সরকারি কর্মকর্তার বৈধ প্রশাসনিক কার্যক্রমকে অপপ্রচার, চাপ কিংবা আর্থিক সুবিধা দাবির মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত করার কোনো সুযোগ নেই।
All rights reserved © 2019
Leave a Reply