
বাগেরহাট প্রতিনিধি:
ঢাকা-বাগেরহাট-শরণখোলা রুটে চলাচলকারী ইমা পরিবহনের বিরুদ্ধে যাত্রী হয়রানি ও অতিরিক্ত সময়ক্ষেপণের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ,পথে পথে মালামাল ওঠানো-নামানো,বিভিন্ন স্টেশন ও বাজারে দীর্ঘ সময় বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী সংগ্রহ এবং লোকাল যাত্রী পরিবহনের কারণে ঢাকা ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন রুটের যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, ইমা পরিবহনের বাসের ছাদ ও লকারে যাত্রীদের লাগেজের পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক মালামাল পরিবহন করা হয়। ফলে অনেক যাত্রীকে নিজেদের মালামাল বাসের ভেতরে নিজ দায়িত্বে রাখতে বলা হয়।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, পথে একাধিকবার মাছ, সুপারি, নারিকেলসহ বিভিন্ন মালামাল ওঠানো-নামানোর জন্য বাস দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকে। এতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক দেরিতে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে যাত্রীদের।
একজন ভুক্তভোগী যাত্রীর অভিযোগ, একই রুটে অন্যান্য পরিবহনে যেখানে সাধারণত ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকায় পৌঁছানো সম্ভব, সেখানে ইমা পরিবহনের একটি বাসে তার প্রায় ১১ ঘণ্টা সময় লেগেছে। তিনি দুপুর ২টার দিকে বাসে ওঠার পর রাত ১টা ৩০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছান বলে জানান।
যাত্রীদের অভিযোগ,পর্যাপ্ত যাত্রী থাকা সত্ত্বেও বাসটি বিভিন্ন বাজার ও স্টেশনে দাঁড়িয়ে নতুন যাত্রী ডাকতে থাকে। অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রী নিয়েও দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া হয়। এতে বিশেষ করে নারী,শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
রাতের বেলায় বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ সময় বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানোর কারণে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের অনিয়মিত থামা যাত্রীদের ছিনতাই, ডাকাতি কিংবা অন্যান্য দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
ভুক্তভোগীদের দাবি,ইমা পরিবহন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। টিকিটে অভিযোগ জানানোর জন্য নম্বর থাকলেও অনেক সময় ফোনে যোগাযোগ করেও সাড়া পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ তাদের।
যাত্রীরা বলেন, নির্ধারিত ভাড়া দিয়ে টিকিট কাটার পরও যদি ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তাহলে তা যাত্রীসেবার পরিপন্থী। জরুরি রোগী, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী ও ঢাকাগামী সাধারণ যাত্রীরা এ কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা ইমা পরিবহনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রশাসন, পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং দক্ষিণবঙ্গের পরিবহন সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
All rights reserved © 2019
Leave a Reply