
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান‘তালাশ’টিমের বিরুদ্ধে মিথ্যা,বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচারের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ক্যান্সার গবেষক ও গণস্বাস্থ্য হোমিওর চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ডা.এস এম সরওয়ার।
বুধবার (২০ আগস্ট) রাজধানীর ৫৬/১ বায়তুল ভিউ টাওয়ারের ১০ তলায় গণস্বাস্থ্য হোমিওর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
অধ্যক্ষ ডা. এস এম সরওয়ারের দাবি,গত ১৪ আগস্ট ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনে সকাল ৭টা ১৭ মিনিটে এবং ‘তালাশ’ অনুষ্ঠানের ৩০৯তম পর্বে রাত সাড়ে ৯টায় তাঁসহ প্রায় ৪০ জন চিকিৎসককে জড়িয়ে মিথ্যা, কাল্পনিক ও মনগড়া তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রচার করা হয়। পরবর্তীতে ১৯ আগস্ট পূর্বের সংবাদসংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ ও কারণ দর্শানোর নোটিশ ব্যবহার করে আবারও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. এস এম সরওয়ার বলেন, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিল বোর্ডের নামে তাঁর বিরুদ্ধে জারি করা কারণ দর্শানোর নোটিশটি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পাওয়ার আগেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি দাবি করেন,ওই নোটিশের বিষয়টি তিনি প্রথমে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পারেন। পরে ২০ আগস্ট বিকেলে হবিগঞ্জে তিনি নোটিশটি হাতে পান।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কাউন্সিলের নথি বা নোটিশ কীভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাপকের হাতে পৌঁছানোর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ল,সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ডা.এস এম সরওয়ার বলেন,আমার বিরুদ্ধে জারি করা কারণ দর্শানোর নোটিশের যথাসময়ে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে কেউ যেন বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়ান। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।
তিনি আরও বলেন,তাঁর দাবি অনুযায়ী,এর আগে ১১ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার,চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং বিভিন্ন সাংবাদিক ও ব্যক্তির ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এর কয়েকদিন পরই তাঁর বিরুদ্ধে‘তালাশ’অনুষ্ঠানে সংবাদ প্রচার করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ডা. এস এম সরওয়ার অভিযোগ করেন,তাঁর বক্তব্য ও অভিযোগের জবাব না দিয়ে তাঁর ও তাঁর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে নেতিবাচক সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় রোগীদের বক্তব্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে তাঁদের মূল বক্তব্য যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। বিষয়গুলো যাচাই করতে আরও সময় নিয়ে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন ব্যক্তি ও সাংবাদিক তাঁর কাছে অর্থ দাবি করেছেন এবং দাবি করা অর্থ না দেওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ডা. এস এম সরওয়ার দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে প্রচারিত সংবাদের কারণে তাঁর ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং প্রায় ১০০ কোটি টাকার মানহানি ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি মনে করছেন।

তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন,কাউকে প্রতারক, ভণ্ড বা দুর্নীতিবাজ হিসেবে অভিহিত করার আগে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ আইনগতভাবে প্রমাণিত হওয়া প্রয়োজন। উপযুক্ত আদালত বা আইনগত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণের আগে কাউকে এ ধরনের পরিচয়ে অভিহিত করা সমীচীন নয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত গণস্বাস্থ্য হোমিওর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিঠুন চৌধুরীও‘তালাশ’টিমের সংবাদ পরিবেশনের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম ও এর সঙ্গে যুক্তদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধেও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এ সময় সৈয়দ ইসমাইল হোসেন জনি বলেন,অভিযোগে উল্লিখিত বিভিন্ন ব্যক্তি ও চক্রের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে অধ্যক্ষ ডা.এস এম সরওয়ার সাংবাদিক ও প্রশাসনের প্রতি তাঁর প্রতিষ্ঠান ও চেম্বার সরেজমিনে পরিদর্শনের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন,আমার পক্ষে কাউকে কিছু করতে হবে না। আপনারা আসুন,আমার চেম্বার ও কার্যক্রম দেখুন। সরেজমিনে যা পাবেন,তা নিরপেক্ষভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরুন।
তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন,সাংবাদিক ও দায়িত্বশীল মহলের সুদৃষ্টি কামনা করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও প্রচারিত সংবাদ নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানান।
উল্লেখ্য,ডা.এস এম সরওয়ারের উত্থাপিত অভিযোগগুলো তাঁর সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্য ও দাবির ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি,প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযুক্ত করা হবে।
All rights reserved © 2019
Leave a Reply