
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জ নগর ভবন ও নগর প্রশাসনের কর্তৃত্ব নিয়ে বিতর্কের মধ্যে এবার আদালত প্রাঙ্গণে আচরণ ও ক্ষমতার প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্নের মুখে সিটি প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আনোয়ার প্রধানের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে জুনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে তাঁর উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, আদালত প্রাঙ্গণে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও নিজের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে জুনিয়র আইনজীবীদের প্রতিবাদের মুখে প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ,সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এবং অবরুদ্ধ থাকার সময়কাল স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
নারায়ণগঞ্জের নগর ভবন নিয়ে সাখাওয়াতের অবস্থান এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্ব প্রয়োগের ধরন নিয়েও জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। একটি নগরীর প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন মানে কি শুধু কর্তৃত্ব দেখানো, নাকি নাগরিকদের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা?
রাজনৈতিক পরিচয়, প্রশাসনিক পদ কিংবা দীর্ঘদিনের দলীয় যোগাযোগ—কোনোটিই কারও জন্য আইনের ঊর্ধ্বে থাকার সুযোগ তৈরি করতে পারে না। একইভাবে, স্থানীয় বাসিন্দা কিংবা আদালতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রেও দায়িত্বশীলতা ও সংযম প্রত্যাশিত।
নারায়ণগঞ্জের মানুষ জানতে চায়,নগর ভবন ও আদালত প্রাঙ্গণ ঘিরে বিরোধের প্রকৃত ঘটনা কী? আনোয়ার প্রধানের সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল? জুনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে উত্তেজনার কারণই বা কী?এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ তদন্ত ও
জনপ্রতিনিধি কিংবা প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারিত হয় তাঁর পদমর্যাদায় নয়, বরং আচরণ,দায়িত্ববোধ ও জনস্বার্থ রক্ষার মাধ্যমে। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সাখাওয়াতের বক্তব্য প্রকাশের মধ্য দিয়েই ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হওয়া উচিত।
All rights reserved © 2019
Leave a Reply