
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল দক্ষিণ চট্টগ্রামের শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল (সিইআইজেড) প্রকল্পে শেষ পর্যন্ত এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, এই প্রকল্প শুধু আনোয়ারা নয়, পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং শিল্পায়নের নতুন যুগের সূচনা করবে।
সোমবার (২৭ জুলাই) আনোয়ারার বেলচূড়া এলাকায় বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চলের গ্রাউন্ডব্রেকিং, অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী জানান,২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্যে এই বিনিয়োগ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সরকার এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে এবং এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বর্তমানে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা থাকলেও অবকাঠামোসহ মোট বিনিয়োগ এক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন,এই শিল্পাঞ্চলকে ঘিরে শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন গড়ে উঠবে। আবাসন,পরিবহন,লজিস্টিকস,সেবাখাত এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দক্ষিণ চট্টগ্রামের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন,বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, সিইআইজেড চেয়ারম্যান ওয়াং বেনচিয়ান, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) প্রেসিডেন্ট এবং চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামসহ দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর নির্মিতব্য এই বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রাথমিকভাবে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ এবং ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা সরকারি অর্থায়ন থেকে ব্যয় করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে জেটি লিংক সড়ক,প্রধান সড়ক, পানি সংরক্ষণাগার, গ্যাস ট্রান্সমিশন লাইন,সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি), বহুমুখী জেটি,সলিড ওয়েস্ট কালেকশন স্টেশন, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র এবং অন্যান্য আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
সরকারের প্রত্যাশা, শিল্পাঞ্চলটি চালু হলে বস্ত্র, তৈরি পোশাক,ইলেকট্রনিক্স,সেমিকন্ডাক্টর, টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম, তথ্যপ্রযুক্তি,ওষুধ,মেডিক্যাল ডিভাইস, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, কেমিক্যাল ও অটোমোবাইলসহ উচ্চমূল্য সংযোজনকারী শিল্প গড়ে উঠবে। এর মাধ্যমে রপ্তানিমুখী শিল্পায়নে নতুন গতি আসবে এবং বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি পাবে।
All rights reserved © 2019
Leave a Reply