
স্টাফ রিপোর্টার।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবির সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দলীয় অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
গত শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী নাভানা ভূঁইয়া সিটি মাঠে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে মনিরুল ইসলাম রবি দাবি করেন—জেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ নাকি মান্নানের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকার একটি গাড়ি উপহার পেয়েছেন।
তবে এই বক্তব্যের স্বাধীনভাবে কোনো সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি,এবং দলীয় কোনো আনুষ্ঠানিক সূত্রও এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।
সমাবেশটি আয়োজন করেন নাসিক ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা। ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি চলাকালে হঠাৎ রবির এই বক্তব্যে নেতাকর্মীরা হতবাক হয়ে যান।
দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা রবির মন্তব্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন,
নির্বাচনী সমাবেশে এমন অযাচিত বক্তব্য দলীয় ঐক্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বিএনপির রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি এখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মান্নানের সরাসরি অস্বীকার:-
এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান পুরো ঘটনাকে ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন,৩০ লাখ টাকার গাড়ি উপহারের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। মনিরুল ইসলাম রবির বক্তব্য সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না—আমি এসব শুনিও নাই।
অন্যদিকে,অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা জেলা আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বর্তমানে পবিত্র উমরা পালনে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। ফলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
রাজনীতিবিদদের মতে,নির্বাচনের সময় এমন মন্তব্য শুধু বিভ্রান্তি বাড়ায়, পাশাপাশি দলীয় অবস্থানেও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও নেতৃত্বের শক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলেও তারা মনে করছেন।
মনিরুল ইসলাম রবির বক্তব্যকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা নারায়ণগঞ্জের বিএনপি রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অভিযোগের সত্যতা, প্রেক্ষাপট বা দলীয় ব্যাখ্যা—কিছুই এখনো স্পষ্ট নয়।
এখন দেখার বিষয়—এ নিয়ে দলীয়ভিত্তিতে কোনো তদন্ত হয় কিনা, কিংবা সংশ্লিষ্ট নেতারা দেশে ফিরে এ বিষয়ে কী ব্যাখ্যা দেন।
Leave a Reply