1. 24@crimetv24.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. admin@crimetv24.com : admin :
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৪ অপরাহ্ন

আদালতের নির্দেশ অমান্য,চিকিৎসা বঞ্চনায় ঝুঁকিতে বন্দী জাহাঙ্গীর।

নিজস্ব প্রতিনিধি :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৭৪ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:-
কক্সবাজার জেলা কারাগারে চরম চিকিৎসা সংকট—উঠছে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ।
কক্সবাজার জেলা কারাগারে চিকিৎসা সংকট,মানবাধিকার লঙ্ঘন ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে এক গুরুতর অসুস্থ বন্দীকে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা না দেওয়ার ঘটনায়। ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত বন্দী, চিকিৎসক স্বল্পতা এবং কারা কর্মকর্তাদের উদাসীনতা—সব মিলিয়ে কক্সবাজার জেলা কারাগারকে‘সংকটাপন্ন প্রতিষ্ঠানে’পরিণত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে। কারা বিধি অনুযায়ী, প্রয়োজন হলে সরকারি হাসপাতালে পাঠানোর নিয়ম থাকলেও বাস্তবে “টাকা ছাড়া চিকিৎসা হয় না”—এমন অভিযোগ বন্দী পরিবারের। ফলে অনেক বন্দী চিকিৎসার অভাবে গুরুতর ঝুঁকিতে পড়ে।

এক সিনিয়র আইনজীবী বলেন,বন্দী অপরাধী বা হাজতি যেই হোক,তাকে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। আদালতের নির্দেশ অমান্য করা আরও বড় অপরাধ।”
হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা এলাকার বন্দী জাহাঙ্গীর আলম।কারাগারের বাথরুমে পড়ে গিয়ে পায়ের রগ ছিঁড়ে মারাত্মকভাবে আহত হন। কারাগারে কোনো চিকিৎসা না পেয়ে তিনি আদালতকে বিষয়টি অবহিত করেন।

পরবর্তীতে ২৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে বিজ্ঞ দায়রা জজ আদালত ৩০০৪ নং স্মারকমূলে কক্সবাজার জেল সুপারকে জাহাঙ্গীরকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

কিন্তু নির্দেশের পর দিনেও কোন চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়নি বলে পরিবার অভিযোগ করেছে।

জাহাঙ্গীরের ভাই মোহাম্মদ আলম বলেন,আদালতের নির্দেশ আছে। তবুও চিকিৎসা দিচ্ছে না। আমার ভাইয়ের কিছু হলে সম্পূর্ণ দায়ভার জেল সুপারকে নিতে হবে।

জেল সুপারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

দেশব্যাপী কারাগারে মৃত্যুর ভয়াবহ চিত্র:-
কারা অধিদপ্তরের নথি অনুযায়ী,গত ৪ বছর ৯ মাসে বন্দী মৃত্যুর সংখ্যা-৯৩৩ জন।বছরে গড়ে বন্দী মৃত্যু-১৯৬ জন।
হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু-২৭৫ জন।
দেশে কারাগারের সংখ্যা:-৭৪টি।
সব কারাগারেই ধারণক্ষমতার বাইরে বন্দী রাখা হচ্ছে।

এছাড়া শনিবার (২২ নভেম্বর) চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে মাওলানা মনসুর আলম এবং একই দিন গাইবান্ধা কারাগারে তারিক রিফাত নামে দুই বন্দীর মৃত্যু হয়। অভিযোগ—সময়ে চিকিৎসা না পাওয়ার কারণেই তাদের মৃত্যু ঘটে।

কারণঃ-চিকিৎসক সংকট,কাঠামোগত দুর্বলতা।

কারা কর্মকর্তাদের দাবি,চিকিৎসকরা প্রেষণে কারাগারে এলেও সেখানে থাকতে চান না।
ক্যারিয়ার অগ্রগতির সুযোগ নেই। চাপযুক্ত পরিবেশ।
নন-ক্যাডারের অধীনে কাজ করতে হয়।

এ কারণে কারা হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক সংকট চরম আকার নিয়েছে।
কারাগার একটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। সেখানে চিকিৎসা বঞ্চনা মানে বন্দীদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া। আদালতের আদেশ উপেক্ষা করা আইনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

জাহাঙ্গীরের ঘটনায় স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে,আদালতের নির্দেশ পালন হয়নি।চিকিৎসা দিতে টাকা চাওয়া হয়,কারাবন্দীরা মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।
অব্যবস্থাপনা ও দায়হীনতার কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে।
এ অবস্থায় কক্সবাজার জেলা কারাগারসহ দেশের সকল কারাগারে চিকিৎসা নিশ্চিতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বন্দী পরিবারের সদস্যরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল সত্ব www.crimetv24.com কর্তৃক প্রকাশিত।