
স্টাফ রিপোর্টার:নারায়ণগঞ্জ।
ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে চাঞ্চল্য—স্বজনদের ক্ষোভ, অবহেলার অভিযোগে উত্তাল পরিস্থিতি।
নারায়ণগঞ্জে চিকিৎসা ব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার আরেকটি ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। শহরের সরকারি নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল-এ চিকিৎসকের অবহেলায় শাহ জাহান পাটোয়ারী (৫০) নামে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্বজনদের দাবি,সকাল ১১টার দিকে কর্মস্থলে হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে দ্রুত শাহ জাহানকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা.নাজমুল হোসেন বিপুল প্রথমে রোগী দেখতে অস্বীকৃতি জানান। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা ও স্বজনদের চাপের মুখে পরে তিনি চিকিৎসা দিতে রাজি হন,যা একজন জরুরি রোগীর ক্ষেত্রে চরম অবহেলা বলেই মনে করছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
অভিযোগ রয়েছে,চিকিৎসকের নির্দেশে সহকারী দুইটি ইনজেকশন দেন এবং একটি ইসিজি করানো হয়। কিন্তু ইসিজি করার কিছুক্ষণের মধ্যেই শাহ জাহান মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এর পরপরই অভিযুক্ত চিকিৎসক হাসপাতাল ত্যাগ করেন—যা পুরো ঘটনাকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।
ঘটনাকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে প্রেসক্রিপশন নিয়ে বিতর্ক। স্বজনদের অভিযোগ,রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রেসক্রিপশন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছে এবং তা পরিবারকে দেওয়া হয়নি—যা প্রমাণ গোপনের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন অনেকেই।
অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ইসিজি রিপোর্ট অনুযায়ী শাহ জাহান হৃদরোগে (হার্ট অ্যাটাক) মারা গেছেন। তবে স্বজনরা এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলছেন, সময়মতো যথাযথ চিকিৎসা পেলে এই মৃত্যু এড়ানো সম্ভব ছিল।
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা শাহ জাহান নারায়ণগঞ্জে কর্মসূত্রে বসবাস করতেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া,আর স্থানীয়দের মাঝে তৈরি হয়েছে ক্ষোভের আগুন।
প্রশ্ন উঠছে,সরকারি হাসপাতালে জরুরি রোগী সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেলে এর দায় কে নেবে? অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? আর কত প্রাণ গেলে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে?
এই ঘটনায় দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও সচেতন মহল।
Leave a Reply