
স্টাফ রিপোর্টার | নরসিংদী।
মেয়ের তথাকথিত ‘অসামাজিক কর্মকাণ্ডে’ বিরক্ত হয়ে হত্যা দাবি,আগে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে আরও কয়েকজন গ্রেপ্তার
নরসিংদীর মাধবদীতে চাঞ্চল্যকর কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় কিশোরীর সৎ পিতা নিজেই তাকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করেছেন বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। একই মামলায় প্রেমিকসহ আরও কয়েকজন আসামিও জবানবন্দি দিয়েছেন।
শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক এসব তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার জানান,নিহত কিশোরীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮) তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। অন্যদিকে হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে হযরত আলীর বাড়িতে কিশোরীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় হযরত আলী,এবাদুল, জামান ও গাফফারসহ কয়েকজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশের তদন্তে আরও জানা যায়,গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে সৎ পিতা আশরাফ আলী (৪৫) পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী কিশোরীকে তার এক সহকর্মী সুমনের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বের হন। পথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তিনি একাই কিশোরীকে হত্যা করেন।

পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দিতে আশরাফ আলী দাবি করেন,সৎ মেয়ের বিভিন্ন ‘অসামাজিক কর্মকাণ্ডে’তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিরক্ত ছিলেন এবং এসব কারণে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ায় ক্ষোভ থেকে তাকে হত্যা করেন।
পুলিশ সুপার জানান,এ ঘটনায় সৎ পিতা আশরাফ আলীসহ প্রেমিক নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা এবং ধর্ষণের অভিযোগে জড়িত আরও কয়েকজনসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
Leave a Reply