
১২ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন–২০২৫ শুরু।
৯ মাস থেকে ১৫ বছরের মধ্যে শিশুদের বিনামূল্যে টিকা দেবে সরকার।
টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধে সরকার আগামী ১২ অক্টোবর ২০২৫ থেকে দেশব্যাপী “টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন–২০২৫” শুরু করছে।
এই কর্মসূচি ইপিআই (Expanded Programme on Immunization) এর আওতায় পরিচালিত হবে, যেখানে ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের মধ্যে বয়সী সকল শিশুকে বিনামূল্যে এক ডোজ টাইফয়েড টিকা প্রদান করা হবে।
টাইফয়েড প্রতিরোধযোগ্য হলেও এখনো ভয়াবহ হুমকি!
টাইফয়েড জ্বর একটি প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক ব্যাধি, যা Salmonella Typhi ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে ছড়ায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৯০ লাখ মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হয় এবং প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার মানুষ এ রোগে মারা যায়। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই দক্ষিণ এশিয়া ও সাব-সাহারান আফ্রিকার জনগোষ্ঠী।
বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে টাইফয়েড এখন অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এলেও বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এটি এখনো একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা।
শিশুদের সুরক্ষায় সরকারের অঙ্গীকার।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে,এই ক্যাম্পেইন দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুস্থ ও রোগমুক্ত জীবন নিশ্চিত করতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ।
এই কর্মসূচি একইসঙ্গে ব্যয়বহুল এবং গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করে কর্মকর্তারা বলেন— আমাদের দেশের শিশুদের মধ্যে কোনোভাবেই টিকা-অবহেলা চলবে না।যদি কোনো শিশু বাদ পড়ে, তার দায়ভার আমাদের সবার। কোনো এতিমখানা,মাদ্রাসা বা প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুও যেন বাদ না পড়ে,তা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে নিবিড় মনিটরিং করা হবে।
সচেতনতামূলক বার্তা:-
টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন–২০২৫ সফলভাবে বাস্তবায়নে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া,যিনি সভায় ক্যাম্পেইনকে শতভাগ সফল করতে সকল কর্মকর্তা,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের প্রতি আহ্বান জানান।
ডিসি’র নির্দেশনা,কোনো শিশু বাদ পড়া যাবে না।
সভায় জেলা প্রশাসক বলেন—
টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যয়বহুল একটি জাতীয় উদ্যোগ। আমাদের জনসংখ্যা বিশাল; তাই যদি কোনো কারণে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ে বা মৃত্যুবরণ করে, সেই ক্ষতি দেশের জন্য অপূরণীয়।
আমরা চাই নারায়ণগঞ্জের ৮ লক্ষ শিশু সবাই এই ক্যাম্পেইনের আওতায় আসুক। কোনো এতিমখানা, মাদ্রাসা বা দূরবর্তী গ্রাম যেন বাদ না পড়ে—এটা নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন—
বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে অনেক সময় অভিভাবকরা টিকার গুরুত্ব অনুধাবন করেন না। তাদের সচেতন করা এবং শিশুদের টিকাদানে উদ্বুদ্ধ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
সমন্বিত উদ্যোগে ক্যাম্পেইন পরিচালনা
সভায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ,শিক্ষা অফিস,উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সবাই অঙ্গীকার করেন— একটি শিশুও যেন টিকা থেকে বাদ না পড়ে; প্রতিটি স্কুল,মাদ্রাসা ও আশ্রয়কেন্দ্রে টিকাদান নিশ্চিত করা হবে।
আমাদের দায়িত্ব শুধু টিকা দেওয়া নয়,প্রতিটি শিশুর জীবন রক্ষা করা—এটাই প্রকৃত দেশপ্রেম।”
— জেলা প্রশাসক,নারায়ণগঞ্জ।
Leave a Reply