
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়িতে এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে জুম্ম ছাত্র-জনতার ডাকা টানা চার দিনের অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে। আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবকে সম্মান জানিয়ে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণার পরেই ঘটনা নতুন ও চাঞ্চল্যকর মোড় নেয়। যে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পুরো পার্বত্য এলাকা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল, মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— অভিযোগকারী স্কুলছাত্রী আসলে ধর্ষণের শিকার হননি।
জুম্ম ছাত্র-জনতার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অবরোধ কর্মসূচি ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা থেকে আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত বা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়িতে এক পাহাড়ি স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নামে জুম্ম ছাত্র-জনতা। পরবর্তীতে ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর অবরোধ চলাকালে গুইমারার রামসু বাজার এলাকায় সহিংস সংঘর্ষে তিনজন নিহত ও সেনাবাহিনীর এক মেজরসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। সহিংসতার জেরে প্রশাসন গুইমারা, সদর উপজেলা ও পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছিল।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত সভায় জুম্ম ছাত্র-জনতার একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। সেখানে তারা ৮ দফা দাবি পেশ করলে প্রশাসন তা বাস্তবায়নের আশ্বাস দেয়।
প্রশাসনের নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে ১৪৪ ধারা তুলে নেওয়া হবে।
গুইমারার সহিংস ঘটনার তদন্তে ৫ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আজ দুপুরে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার, পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েলসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
ঘটনার তদন্তে সোমবার মেডিক্যাল বোর্ডের গঠিত প্রতিবেদনে ওই কিশোরীর শরীরে কোনো ধর্ষণের আলামত বা আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন ডা. ছাবের আহম্মেদ মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে বলেন, “তিন সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্টে ধর্ষণের কোনো প্রমাণ মেলেনি।”
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আরেফিন জুয়েল বলেন, “বিষয়টি এখন একদম পরিষ্কার— ধর্ষণের ঘটনাই ঘটেনি। একটি গোষ্ঠী মিথ্যা অভিযোগ তুলে পুরো পার্বত্য অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছিল।
অবরোধ চলাকালে সহিংস বিক্ষোভে গুইমারার রামসু বাজার এলাকায় রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও অবরোধকারীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার সময় গুলিতে তিনজন নিহত হন এবং সেনাবাহিনীর একজন মেজরসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। নিহতদের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার রাতে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বর্তমানে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী,বিজিবি ও পুলিশ যৌথভাবে টহল দিচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনের দাবি,সোমবার থেকে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
ধর্ষণের অভিযোগে গত মঙ্গলবার রাতে শয়ন শীল নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি আদালতের নির্দেশে ছয় দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।
Leave a Reply