
১ জুলাই ২০২৫ | বিশেষ প্রতিবেদন।
নারায়ণগঞ্জ কলেজ, নারায়ণগঞ্জ —
নারায়ণগঞ্জের শিক্ষা-অঙ্গনে এক নতুন শঙ্কার ছায়া। শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর নির্মাণাধীন কদমরসুল সেতুর পশ্চিমমুখ কলেজের প্রধান ফটকের সামনে হওয়ায় বিপর্যস্ত হতে পারে এক দশকের বেশি পুরনো শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ। এমন আশঙ্কায় সরব হয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সমাজ।
সোমবার (১ জুলাই) নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এ এইচ এম কামরুজ্জামান-এর কাছে এক অনন্য উদ্যোগ হিসেবে স্মারকলিপি প্রদান করেছে নারায়ণগঞ্জ কলেজ পরিবার। নেতৃত্বে ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ ড. ফজলুল হক রুমন রেজা।
কেন উদ্বিগ্ন নারায়ণগঞ্জ কলেজ?
নারায়ণগঞ্জ কলেজ শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়—এটি শহরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শিক্ষার প্রতীক। এখানে প্রতিদিন প্রায় দশ হাজার শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। কলেজ চত্বরটি বছরের অধিকাংশ সময়ই উচ্চ মাধ্যমিক, ডিগ্রি, অনার্স, মাস্টার্স ও এলএলবি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
কিন্তু প্রস্তাবিত সেতুর মুখ যদি কলেজ গেটের সামনের ব্যস্ততম এলাকায় হয়, তাহলে এখানে শুধু যানজটই বাড়বে না—শিক্ষার স্বাভাবিক গতি হবে বিপর্যস্ত।
এলাকাটি আগে থেকেই চাপযুক্ত।
স্মারকলিপিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে—কালীরবাজার, ফলপট্টি, দিগুবাবু বাজার, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল ও লঞ্চঘাট—সব মিলিয়ে এই এলাকা হলো শহরের ট্রাফিক ও বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু। সেই সঙ্গে আছে নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল ও নারায়ণগঞ্জ কলেজ, দু’টি প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
এই অবস্থায় সেতুর ওঠানামার মুখ যদি এখানেই হয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, পরীক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষক-অভিভাবকদের চলাচল চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।
প্রশাসনের প্রতি আহ্বান:
স্মারকলিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি ফারুক আহমেদ, মাসুম বিল্লাহ, শরীফ মোহাম্মদ আরিফ,রবিউল ইসলাম ও বরুন কুমার ভট্টাচার্য। তারা জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনসাধারণের স্বার্থে সেতুর মুখ অন্যত্র সরানোর বিকল্প নেই।
এই দাবি ইতিমধ্যেই নারায়ণগঞ্জের নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব সমর্থন করেছে এবং সংশ্লিষ্ট নকশা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।
একটি সেতু শুধু যোগাযোগ নয়, তার প্রভাব পড়ে সমাজ ও শিক্ষার ওপরও। সময় এসেছে উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া
তথ্যসূত্র: কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত স্মারকলিপি।
Leave a Reply