
আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ | ৯ জুন ২০২৫, সোমবার
বছরের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে,পুলিশের জালে ধরা পড়েও রাজনৈতিক প্রভাবে মুক্তি পেলেন কুখ্যাত ডাকাত সাইফুল! আইন যখন নিরব, রাজনীতি তখন যেন সর্বশক্তিমান।
ছোট জালাকান্দির মৃত রজব আলীর ছেলে সাইফুলের বিরুদ্ধে রয়েছে আড়াইহাজার থানায় তিনটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। গতকাল বিকেল ৫টার দিকে গোপালদী ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে তাকে গ্রেফতার করা হয় ফতেপুর ইউনিয়নের কালিরহাট বাজার থেকে।
কিন্তু এই সফল অভিযান নিমিষেই রূপ নেয় এক অবিশ্বাস্য নাটকে।
ঠিক একই সময়ে বাজারের পাশেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির সভা চলছিল। সভায় ছিলেন বিএনপির ঢাকা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য—তিনি জনসমক্ষে সাইফুলকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন, এবং অবাক করার মতোভাবে,পুলিশ তাতে কোনো বাধা দেয়নি! রাজনীতির ছত্রছায়ায় অপরাধের রমরমা!
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষোভ ও বিস্ময়। নাগরিকরা প্রশ্ন তুলছেন,“এ কেমন দেশ? এখানে আইন চলে, না রাজনীতির হুকুমে সব হয়?”
সাধারণ মানুষের দাবি, আজাদ ও তার প্রভাবশালী ভাই ও দলীয় নেতারা দীর্ঘদিন ধরে কুখ্যাত অপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছেন।
বিষয়টি আরও বিস্ময়কর করে তোলে একই দিনে আড়াইহাজারে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সফর। তিনি নিজেই আড়াইহাজারকে ডাকাতপ্রবণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা দিয়ে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন। অথচ সেই দিনেই একজন তালিকাভুক্ত ডাকাত পুলিশের কাছ থেকে “রাজনৈতিক আদেশে” মুক্ত হয়ে যায়—এ যেন রাষ্ট্রের নাকের ডগায় রাষ্ট্রবিরোধী চড় থাপ্পড়!
পুলিশের ভূমিকা,নিষ্ক্রিয় না নির্দেশপ্রাপ্ত?সাইফুলকে গ্রেফতার করা সহকারী উপ-পরিদর্শক আমিনুল ইসলামের মন্তব্য আরও প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে। প্রথমে তিনি বলেন, “আজাদ সাহেব ছিনিয়ে নেননি, শুধু অনুরোধ করেছিলেন।”
কিন্তু আইনি প্রশ্নের মুখে পড়তেই,তিনি ফোন কেটে দেন!
থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার নাসিরউদ্দিনও এ ব্যাপারে নিরবতার আশ্রয় নেন।
নজরুল ইসলাম আজাদ ‘নিখোঁজ’,হাতের ফোনও এখন নিশ্চুপ!
বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার ফোন করা হলেও নজরুল ইসলাম আজাদ ফোন ধরেননি। এমনকি তার ভাই রাকিব, বিএনপির উপজেলা সেক্রেটারি জুয়েল ও সাবেক সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান হাবুর বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে,তারা সক্রিয়ভাবে অপরাধীদের ছত্রছায়া দিচ্ছেন।
প্রশ্ন রয়ে যায়:-
“পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পরও যদি এক ডাকাতকে প্রকাশ্যে ছিনিয়ে নেওয়া যায়,তবে আমরা নিরাপদ তো?”
📢 বিশেষ দ্রষ্টব্য:
এই রিপোর্ট স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী, সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্য ও দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা বা পদক্ষেপ এলে পরবর্তী আপডেটে তা প্রকাশ করা হবে।
Leave a Reply