নিউজ ডেস্ক:আন্তর্জাতিক।
বাংলাদেশে বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশের তুলনায় কোরবানির হার অনেক বেশি বলে বিভিন্ন গবেষণা ও গণমাধ্যম প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রায় ১৫ কোটি মুসলমানের দেশে প্রতি ১৫ জনে একটি পশু কোরবানি হয়, যেখানে সৌদি আরবে প্রায় ৩৫ জনে একটি পশু কোরবানি দেওয়া হয় বলে দাবি করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে কোরবানি শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়,বরং এটি পারিবারিক ঐতিহ্য, সামাজিক মর্যাদা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। ফলে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক পশু কোরবানি দেওয়া হয়,যা দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
প্রাণিসম্পদ খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন,ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে গবাদিপশু পালন,পরিবহন,পশুর হাট,চামড়া শিল্প, কসাই ও মৌসুমি শ্রমবাজারসহ বহু খাতে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বেড়ে যায়। সরকারিভাবে প্রতিবছর লাখ লাখ পশু কোরবানি হওয়ার তথ্যও প্রকাশ করা হয়। ২০২৫ সালে দেশে প্রায় ৯১ লাখ পশু কোরবানি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এছাড়া অনলাইন পশুর হাট ও ডিজিটাল কেনাবেচাও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এতে শহরাঞ্চলের ক্রেতাদের অংশগ্রহণ আরও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে,বাংলাদেশের মানুষের ধর্মীয় আবেগ, পারিবারিক অংশগ্রহণ এবং সামাজিক সংস্কৃতির কারণে কোরবানির হার তুলনামূলকভাবে বেশি। একই সঙ্গে দেশীয় খামারিরাও এই মৌসুমকে কেন্দ্র করে বড় অর্থনৈতিক প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন।
বাংলাদেশে প্রতি ১৫ জনে একটি এবং সৌদি আরবে প্রতি ৩৫ জনে একটি কোরবানি হয়,—এই তথ্যটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও এর নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক গবেষণা বা সরকারি পরিসংখ্যান সহজে পাওয়া যায় না।
তবে বাংলাদেশে কোরবানির সংখ্যা অনেক বেশি—এটি সত্য এবং সরকারিভাবে প্রতিবছর কয়েক মিলিয়ন পশু কোরবানির তথ্য প্রকাশ করা হয়। অন্যদিকে সৌদি আরবে হজকেন্দ্রিক কোরবানি ছাড়াও স্থানীয় কোরবানি হয়,কিন্তু সেখানকার মোট পরিসংখ্যান সবসময় প্রকাশিত হয় না। তাই ১৫ জনে ১টি।বা ৩৫ জনে ১টি,হিসাবকে শতভাগ নিশ্চিত সরকারি তথ্য বলা কঠিন।
অর্থাৎ বাংলাদেশে কোরবানির হার অনেক বেশি,এটা বাস্তবসম্মত।
সামাজিক মর্যাদা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার বিষয় জড়িত,এটিও সমাজবিজ্ঞানীদের সাধারণ পর্যবেক্ষণের সঙ্গে মিলে।
তবে সৌদি আরবের সঙ্গে তুলনামূলক সংখ্যাটি এখনো পুরোপুরি যাচাইকৃত আন্তর্জাতিক ডেটা নয়।
(সংগৃহীত)।