ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত—টানা আট মাসের বেতন না পেয়েও জীবিকার আশায় কারখানার গেট না ছাড়েন বন্দর স্টিল মিলস লিমিটেডের শতাধিক শ্রমিক। সন্তানদের স্কুল ফি, ঘরের ভাড়া,এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম—সবই যেন তাদের ওপর পাহাড় হয়ে নেমেছে।
এর আগেও দুই দফায় উপজেলা প্রশাসন ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের উপস্থিতিতে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছিল, কিন্তু প্রতিবারই তা কেবল প্রতিশ্রুতিতেই সীমিত থাকে।
সর্বশেষ আজ বৃহস্পতিবার (০৬ নভেম্বর ২০২৫) সকাল থেকে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ফ্যাক্টরির সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। দীর্ঘ ছয় ঘণ্টার টানটান পরিস্থিতির পর সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্লোল,সিনিয়র এএসসি সাদিকুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান এবং মালিকপক্ষের প্রতিনিধি।
আলোচনা শেষে মালিকপক্ষ প্রতিশ্রুতি দেয়,আগামী ১০ নভেম্বর দুই মাসের বেতন এবং ২০ নভেম্বর বাকি বকেয়া পরিশোধ করবে।
শ্রমিকরা আপাতত আশ্বাস মেনে নিলেও,তাদের চোখে স্পষ্ট অনিশ্চয়তা। এক শ্রমিক বলেন,আমরা আগেও শুনেছি—তারিখ দিলেই হয়,টাকা দেয় না। এবার যেন সত্যি দেয়।
বন্দর স্টিল মিলসের মতো বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বকেয়া বেতন শ্রমিক জীবনে যে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে, তা শ্রমনীতি ও শিল্পসম্পর্কের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।