নিজস্ব প্রতিবেদক | জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় | ৫ নভেম্বর ২০২৫।
এক সময়ের আলোচিত ছাত্রীনেত্রী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় কর্মী খাদিজাতুল কোবরা আবারও আলোচনায়। ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখালিখির অভিযোগে ১৫ মাস কারাভোগের পর মুক্তি পাওয়া এই তরুণী এখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন — তবে এবার তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছাত্রদলের প্যানেলে।
বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচনায় এসেছে তার এই সিদ্ধান্ত।
একাধিক সূত্রের দাবি, কোবরা প্রথমে বাগছাস ও ছাত্র অধিকার পরিষদ— দুই সংগঠনের সাথেই যোগাযোগ করেছিলেন,কিন্তু আর্থিক সুবিধা না মেলায় শেষ পর্যন্ত ছাত্রদলের প্রস্তাব গ্রহণ করেন।
ছাত্রদলীয় সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সংগঠনের ভাবমূর্তি ও ভোটারদের আবেগ— দুই-ই কাজে লাগাতে চায় ছাত্রদল। কোবরা নেনও এই প্রস্তাব, এবং তাকে সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
যদিও দলটির পক্ষ থেকে প্রথমে তাকে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছিল, কোবরা নাকি নিজেই সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। কারণ হিসেবে জানা গেছে, জকসুর ভিপি ও জিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছাত্রশিবির ঘরানার দুই নেতা, যাদের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাননি তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জকসু নির্বাচন ঘিরে এবার “তারকাত্ব বনাম ত্যাগ”— এই দ্বন্দ্বই মূল আলোচ্য হয়ে উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
খাদিজাতুল কোবরা একটা প্রতীক— নির্যাতিত ছাত্রীর, প্রতিবাদের। এখন দেখা যাক,রাজনীতির মাঠে সেই প্রতীক টিকে থাকে নাকি ম্লান হয়ে যায়।
খাদিজাতুল কোবরার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।