কুমিল্লা প্রতিনিধি | তারিখ: ৪ জুলাই ২০২৫
কুমিল্লার মুরাদনগরে ঘটে যাওয়া এক নারকীয় নির্যাতনের ঘটনায় ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার মূল হোতা মো. শাহ পরান (২৮) র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত এই ঘটনার মূল উদ্যোক্তা হিসেবে সে নিজেই দায় স্বীকার করেছে বলে র্যাব জানায়।
ঘটনার পেছনে লুকিয়ে ছিল ভাইয়ে ভাইয়ে দ্বন্দ্ব,সূত্র মতে, বাহেরচর গ্রামের বাসিন্দা ফজর আলী ও তার ছোট ভাই শাহ পরানের মধ্যে কয়েক মাস আগে এক গ্রাম্য সালিশে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। ওই সময় বড় ভাই ফজর আলী প্রকাশ্যে শাহ পরানকে অপমান করেন, যার প্রতিশোধ নিতে শাহ পরান এই অমানবিক পরিকল্পনার ছক আঁকে।
ঘটনার দিন ভিকটিম তার পিতার বাড়িতে ছিলেন। রাতে ফজর আলী “সুদের টাকা” ফেরত নেয়ার অজুহাতে কৌশলে ভিকটিমের ঘরে প্রবেশ করে। কিছু সময় পর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী শাহ পরান ও তার সহযোগীরা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে ভিকটিমকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে এবং অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল,তদন্তে নামে র্যাব,
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরে ভিকটিম নিজেই মুরাদনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার নং:
র্যাব-১১ এর একটি বিশেষ দল প্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩ জুলাই রাতে কুমিল্লার কাবিলা বাজার থেকে শাহ পরানকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জবানবন্দিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য
জিজ্ঞাসাবাদে শাহ পরান স্বীকার করে, তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে সে-ই পরিকল্পনার নেতৃত্ব দেয়। ঘটনার প্রতিটি ধাপ সে নিজেই পরিচালনা করেছে এবং সহযোগীদের সক্রিয়ভাবে যুক্ত করেছে।
বর্তমানে তাকে মুরাদনগর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে এবং অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।